fbpx
অন্যান্য

আমার মৃত্যু যদি গতির কারণে হয়ে থাকে, কেঁদো না কেউ কারণ আমি হাসিমুখেই মরব

সঞ্জয় কুমার, দক্ষিণবঙ্গ ডেক্সঃ আমার মৃত্যু যদি গতির কারণে হয়ে থাকে, কেঁদো না কেউ কারণ আমি হাসিমুখেই মরব।

সিনেমাপ্রেমীদের কাছেই বেশ পরিচিত একটি নাম পল ওয়াকার।

হলিউড সিনেমায় টিকে থাকার জন্য একজন অভিনেতার মধ্যে যে ব্যাপারগুলো থাকতে হয়, যেমন- সোনালি চুল, নীল চোখ, আকর্ষণীয় চেহারা আর অভিনয় দক্ষতা, এর সবই ছিল পল ওয়াকার।

সুদর্শন অভিনেতা হিসেবে চাইলেই পল ওয়াকারের চেহারার মাধুর্য দিয়েই হলিউডের উজ্জ্বল তারকা হয়ে থাকতে পারতেন দীর্ঘ সময়ের জন্য।

পল ওয়াকার গতানুগতিক এই ধারা মেনে নেওয়ার বান্দা ছিলেন না। সারাক্ষণ পার্টি আর নাইটক্লাব নিয়েও পড়ে থাকতেন না তিনি অন্যান্য গ্ল্যামার বয়দের মতো।

পার্টি বা নাইটক্লাবে যাওয়াটা খুব খারাপ কিছু না লোকে বলে। তাদেরকে আমি বলি, ‘রিভার ফিনিক্সকে দেখুন, এসবে একবার আটকে গেলেন তো হেরে গেলেন’, হলিউড আবর্জনা ছাড়া আর কিচ্ছু না।

পল ওয়াকার মেতে থাকতেন অভিনয়, কার রেসিং আর তারই তৈরি করা ‘রিচ আউট ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ সংস্থা নিয়ে।

১৯৭৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পল ওয়াকার জন্মগ্রহণ করেন, ফ্যাশন মডেল এবং অভিনেত্রী শেরিল ওয়াকারের গর্ভে।

মাত্র দু’বছর বয়সেই মায়ের জনপ্রিয়তার কারণে বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে তিনি পা রাখেন শো-বিজনেসের জগতে।

যুক্তরাষ্ট্রের চ্যানেলে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রচার হওয়া প্যাম্পার ব্র্যান্ডের ডায়াপারের বিজ্ঞাপনে শিশুটি ছিলেন পল ওয়াকার।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে পল ওয়াকার ছিলেন সবার বড়।

মায়ের মতো সুদর্শন আর আত্মবিশ্বাসী ছিলেন পল শৈশব থেকেই।

সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে যান ১৩ বছর বয়সেই।

‘মনস্টার ইন ইউর ক্লোজেট’ ১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমার মধ্য দিয়ে সেলুলয়েড জগতে পলের বিচরণ শুরু হয়ে যায়।

অতিথি শিল্পী হিসেবে বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকে তিনি হাজির হন।

সেখানে অভিনয় করার পাশাপাশি কিছু সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্রে কাজ করার পর দর্শকদের নজরে আসেন পল ১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভার্সিটি ব্লু’ ও ‘শি ইজ অল দ্যাট’ সিনেমাগুলোর মাধ্যমে।

পল ২০০১ সালে নির্মিত ‘দ্য ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমায় নিজের জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারী করেন অভিনয় করে।

তিনি হয়ে উঠেন দারুণ জনপ্রিয় তরুণ দর্শকদের মাঝে।

‘ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের প্রথম এই সিনেমাটি ২০০ মিলিয়ন ডলারের মতো বক্স অফিসে আয় করে নিয়েছিল।

সিরিজের নতুন সিনেমা হাজির হয় দু’বছর পর, পল ওয়াকার এবারে সিনেমার মূল নায়ক।

পলের দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে অভিনেতা ভিন ডিজেল ছাড়াই সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তুলতে সক্ষম হয়ে যায়।

৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি আয় করে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ডলার।

পল তারপর থেকে অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয় করা শুরু করে।

২০০৬ সালে ক্লিন্ট ইস্টউড পরিচালিত ‘ফ্ল্যাগস অব আওয়ার ফাদার’ এর মাধ্যমে অভিনেতা হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিসর দেখিয়ে দেন।

সিরিজের চতুর্থ সিনেমা ২০০৯ সালে ‘দ্য ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াস’ এর মাধ্যমে এই মানিকজোড়কে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে স্টুডিও।

ওয়াকার আর ভিন ডিজেলের মধ্যকার কেমিস্ট্রি ছিল এই সিরিজের প্রাণ।

ব্রায়ান আর টরেটোর পথচলা নতুন উদ্যমে শুরু হয়।

২০১১ সালে সিরিজের পঞ্চম সিনেমা ‘ফাস্ট ফাইভ’ এ তাদের সাথে যোগ দেন ‘দ্য রক’খ্যাত ডোয়াইন জনসন।

ফাস্ট ফাইভ’ সিনেমাটি সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকদের কাছেও প্রশংসা পায় এবং আয় করে নেয় প্রায় ৬২৭ মিলিয়ন ডলার।

সিরিজের ষষ্ঠ সিনেমা ২০১৩ সালে আসে ‘ফিউরিয়াস সিক্স’, ফাস্ট ফাইভের মতো সমালোচকদের সুনজরে না আসলেও এটি ঝড় তুলে বক্স অফিসে।

সপ্তম সিনেমার কাজ শুরু হয়ে যায়। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস যে সেই সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার কিছুদিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পল ওয়াকার।

সেই দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর।

দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য তার নিজেরই তৈরি ‘রিচ আউট ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ সংস্থার আয়োজিত চ্যারিটি প্রোগ্রাম থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পল তার বন্ধু ও অর্থ উপদেষ্টা রজার রোডাস।

প্রায় একশো মাইল গতিতে চলতে থাকা সেই গাড়িটির চালক হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার ফলে, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে চলতে শুরু করে এবং গাড়ির প্যাসেঞ্জার সাইড রাস্তার পাশের আইল্যান্ডের গাছের সাথে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারলে বিস্ফোরণের পর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।

আর পল আর তার বন্ধু সেই আগুনেই অকালে প্রাণ হারান।

তাদের শরীর বিস্ফোরণের কারণে এতটাই ক্ষত-বিক্ষত ছিল যে, তাদেরকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে কষ্ট হয়েছিল।

পুলিশের তদন্ত থেকে জানা যায় যে, গাড়িতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় কিংবা ড্রাগের চিহ্নও পাওয়া যায়নি তাদের মৃতদেহে।

গাড়ির রেসিংয়ের প্রতি পল ওয়াকারের সিনেমা ছাড়াও বাস্তব জীবনে ব্যাপক আগ্রহ ছিল।

বেশ দক্ষভাবে গাড়ি চালাতে পারতেন বলে শুটিংয়ের সময় স্টান্টগুলো প্রায়ই নিজে নিতেন পল ওয়াকার।

চ্যারিটি ফান্ডের জন্য আয়োজিত কার রেসিং ইভেন্টেও যোগ দিতেন পল।

তার অকালমৃত্যুর কারণ এই শখের ব্যাপারটিই হয়ে দাঁড়াল।

না ফেরার দেশে বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে চলে গেলেন।

সিরিজের সপ্তম সিনেমার পরিচালককে ব্যবহার করতে হয়েছিল মোট চারজন বডি ডাবল, দুজন ছিলেন পলের আপন দুই ভাই কডি এবং ক্যালেব ওয়াকার।

সিনেমাটি তার মৃত্যুর চার মাস পর মুক্তি পায়। মুক্তি পায় তার অভিনীত আরও দুটি সিনেমা ‘আওয়ারস’ এবং ‘ব্রিক ম্যানশন’।

তৃতীয় পল উইলিয়াম ওয়াকার তার বাবার নাম ছিল।

Dokkhinbongo ads

তার বাবা একজন নিকাশী ঠিকাদার এবং দুই বার করে গোল্ডেন গ্লাভস জেতা প্রাক্তন মুষ্টিযোদ্ধা ছিলেন।

লস এঞ্জেলেসের সান ফার্নান্ডো ভ্যালিতে শৈশব কেটেছে এবং তিনি সেখানকার গ্রামীণ খ্রিস্টান স্কুলে পড়াশোনা করতেন।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কমিউনিটি কলেজে পড়াশোনা করেন, মেজর ছিল মেরিন বায়োলজি।

২০০৬ সালে তিনি ফ্লোরিডার ‘বিলফিশ ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালনা পরিষদে যোগদান করেন।

মারা যাওয়ার মাত্র সাতদিন আগে ভিন ডিজেলের সাথে শেষ সাক্ষাৎ হয় পলের।

পলের বাড়ি থেকে ফেরার সময় ভিন ডিজেল তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন “আমি যদি আজকে মারা যাই, তুমি সবাইকে জানিয়ে দিও আমি তোমার কেমন ভাই ছিলাম।

আরো পড়ুন- মাগুরায় নিউ আলেয়া ক্লিনিক ম্যানেজার মাদকসহ গ্রেফতার

আরো পড়ুন- সরকার পর্নো ও জুয়ার ২২ হাজার সাইট বন্ধ করেছেন

পল ওয়াকারের মৃত্যুর দুই বছর পর ভিন ডিজেল নিজের নবজাত কন্যার নাম রাখেন ‘পলিন’ তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে।

প্রাক্তন প্রেমিকা রেবেকা সতেরসের সাথে একজন কন্যা সন্তান আছে, নাম মেডো এবং ভিন ডিজেল তার গডফাদার।

পলের মা বর্তমানে মেডোর দেখাশোনা করেন।

জেসমিন পিলচার্ড গসনেলের সাথে মারা যাওয়ার আগে পলের সম্পর্ক ছিল।

তাদের সম্পর্কে যখন সূচনা হয়, জেসমিনের তখন বয়স ছিল ষোল বছর এবং যখন তিনি মারা যান তখন তার বয়স ছিল তেইশ।

ফেসবুকে সর্বশেষ নিউজ পেতে এড হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে দক্ষিণবঙ্গ

Related Articles

370 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button