fbpx
বিশেষ সংখ্যা

কেএফসি- কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন এর রহস্য

দক্ষিণবঙ্গ ডেক্সঃ কেএফসি- আমরা সবাই কমবেশি ফাস্টফুড পছন্দ করি। আর যদি চিকেন ফ্রাই পাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই আর সেটা যদি কেএফসির হয় তাহলে তো সোনাই সোহাগা। কেএফসি-কে হয়তো আমরা সবাই চিনি। কিন্তু কেএফসি সম্পর্কে আমরা কতজন জানি। সারাবিশ্বে তো বটেই আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও মানুষের কাছে কেএফসি’র খাবার খুব জনপ্রিয়। একটু অবসর পেলেই আমরা অনেকেই ফাস্টফুড খাবারের স্বাদ নিতে ছুটে যাই। এখন পৃথিবীর মানুষের মধ্যে ফাস্টফুডের প্রতি এক ধরনের আসক্তি তৈরী হয়েছে তার পেছনেও কেএফসির অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।

কেএফসি ’র মালিক কর্নেল স্যান্ডার্স

আজ আমরা যারা কেএফসির ফাস্টফুড, চিকেন ফ্রাইড খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি তাদের ক’জনই জানি যে, কী করে গড়ে উঠল আজকের সুনামধন্য এই কেএফসি। আর কিভাবেই কেএফসির খ্যাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল। কেএফসি’র রেস্টুরেন্ট অথবা এর খাবারের প্যাকেটে চশমা পরা সদাহাস্যময় বৃদ্ধের একটি ছবি। তিনিই কিন্তু কর্নেল স্যান্ডার্স, কেএফসির মালিক, কেএফসির প্রতিষ্ঠাতা। কেএফসি পুরো নাম “কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন“। এই রেসিপিকে জনপ্রিয় করতে ওই বৃদ্ধকে অপেক্ষা করতে হয়েছিলো জীবনের বাষট্টিটি বছর। কেএফসির প্রতিষ্ঠাতার পুরো নাম কর্নেল হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স।

হতাশা থেকে সফলতা প্রাপ্তি

হতাশ না হয়ে লেগে থাকলে শেষ পর্যন্ত যে সফল হওয়া যায়, তার বাস্তব প্রমাণ হলো কেএফসির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স। কেএফসির প্রতিষ্ঠাতার নামের শুরুতে কর্ণেল পদবী থাকলেও আসলে কিন্তু তিনি সেনা সদস্য ছিলেন না। তবে কেএফসি প্রতিষ্ঠার আগে এমন কোনো কাজ নেই যার সঙ্গে কার্নেল স্যান্ডার্স জড়াননি। স্যান্ডার্স ছিলেন একজন স্কুল থেকে ঝরে পড়া ছাত্র। সফল হওয়ার জন্য কি করেননি তিনি। পৃথিবীখ্যাত একজন ব্যবসায়ী হওয়ার আগে স্যান্ডার্স কে ছিলেন? কোথায় কাজ করেননি তিনি।

আরও পড়ুন-

১. মাথায় খুশকি সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

২. ফাস্টফুড ওজন বৃদ্ধিসহ উচ্চ রক্তচাপ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে

৩. মুসলিম ফারায়েজ অনুযায়ী কে কতোটুকু সম্পত্তির অংশ পাবে (?)

খেত মুজরের কাজ করেছেন বিমা কোম্পানির সেলসম্যান, ট্রেনের ফায়ারম্যান, ছিলেন গাড়ির টায়ার বিক্রেতা, ফিলিং স্টেশনের কর্মকারী হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। ছিলেন আইনজীবি, নৌকার উদ্যোক্তা, ছিলেন রাজনীতিক, কোন কাজেই সফলতা পাননি তিনি। শখ মেটাতে কিছুদিন তিনি ধাত্রী বিশারদের কাজও করেছিলেন তিনি। এমনকি রাজনীতিতেও নাম লিখিয়েছিলেন। সর্বশেষ হয়েছেন একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী হিসাবে। এই রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকেই তিনি পেয়েছেন পৃথিবী খ্যাত সফলতা।

কেএফসি- কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন এর রহস্য
Source: দক্ষিণবঙ্গ ডেক্স

কর্ণেল স্যান্ডার্স

কর্ণেল হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স জন্মগ্রহণ করেন ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৯০ সালে। স্যান্ডার্সের বাবা উইলবার ডেভিড ও তার মা মার্গারেট অ্যান। তাদের পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় স্যান্ডার্স। স্যান্ডার্সের বয়স যখন পাঁচ, হঠাৎ এক দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায় স্যান্ডার্সের বাবার। দূর্ঘটনার ২ বছর পরে ১৮৯৫ সালে স্যান্ডার্সের বাবা মারা যান। সংসার চালানোর জন্য মা মার্গারেটকে বের হতে হলো উপার্জনের জন্য। এ সময় ছোট দুই ভাইবোনকে দেখভালের দায়িত্ব পড়ল হারল্যান্ডের উপর। তাদের খাওযানোর ব্যবস্থা করতে নিজেই মাথা খাটিয়ে বের করলেন মাংস আর পাউরুটি দিয়ে চটজলদি রকমারি খাবার। এই শেফগীরী হারল্যান্ডকে বেশ আনন্দ দিতো।

কিন্তু বেশি দিন এই জীবন থাকতে পারলেন না হারল্যান্ড। পারিবারিক অর্থকষ্টে পড়ে দশ বছর বয়সে বাধ্য হলো খামারবাড়ির কাজ নিতে। ২ বছর পরে স্যান্ডার্সের মা মার্গারেট অ্যান আবারও বিয়ে করেন। কিন্তু তার এই নতুন বাবা কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না তার মা মার্গারেটের প্রথম পক্ষের তিন সন্তানকে। সৎ বাবার অত্যাচার নিয়ে পরিবারে পড়ে থাকতে ভালো লাগেনি স্যান্ডার্সের। স্যান্ডার্স বিরক্ত হয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সে বাড়ি ছাড়লেন হারল্যান্ড। চলে গেলেন ইন্ডিয়ানার অন্যপ্রান্তে। মায়ের অনুরোধে আশ্রয় জুটল এক আত্মীয়র বাড়িতে। এখানে জীবিকা নির্বাচনের জন্য হারল্যান্ডকে বিভিন্ন সময় বাসের কন্টাক্টর, সেনাবাহিনীতে চাকরি, রেলে ইঞ্জিনে বেলচা দিয়ে কয়লা ফেলা, কয়লার ইঞ্জিনের ছাই সাফাইয়ের কাজ করতে হয়েছে।

১৯০৩ সালে স্কুলের গন্ডি ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন খামারের কাজ। এরপর ইন্ডিয়ানা পুলিশ বাহিনীর ঘোড়ার গাড়ি রং করার চাকরি নেন। এরপর যখন স্যান্ডার্সের ১৪ বছর বয়স তখন অন্য একটি খামারে খেত মজুরের কাজ শুরু করেন। সেখানে দুই বছর কাজ করার পর ১৯০৬ সালে তার মায়ের অনুমতি নিয়ে তার চাচার সঙ্গে দেখা করেন। তার চাচা ইন্ডিয়ানার নিউ আলবানির একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। চাচা স্যান্ডার্সকে ওই কোম্পানিতেই কন্ডাক্টর পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

এখানে বছরখানেক চাকরি করে আলবামার আরেক অঞ্চলে তার আরেক চাচার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি সেখানে স্যান্ডার্সকে একটি কামারশালায় ঢুকিয়ে দেন। এখানে দুই মাস যেতে না যেতেই আরেক এলাকা জাসপারে কয়লা চালিত ট্রেনের ছাইয়ের ট্যাংকি পরিষ্কারের কাজ নেন। তার যখন ১৬ বছর বয়স তখন কাজ পান ফায়ারম্যানের। এর মধ্যে কাজ জুটিয়ে নেন নর্থফোক এবং ওয়ের্স্টান রেলস্টেশনে দিনমজুরের। স্যান্ডার্সের এক জায়গায় বেশিদিন কাজ করার অভ্যাস ছিলো না। দুই বছর পর আবার তিনি ফিরে যান ইলিনয় সেন্ট্রাল রেল রোডে। কাজন নেন ফায়ারম্যানের।

এরপর তিনি এক্সটেনশন ইউনিভার্সিটিতে আইন পড়তে শুরু করেন। এরই মধ্যে স্যান্ডার্স সংগ্রামী জীবনের ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেন জোসেফিনকে। সংসার জীবনে এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা হলেন স্যান্ডার্স। যদিও পুত্র সন্তান শৈশবেই মারা যায়। এ সময় বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় চাকরি হারাতে হয় তাকে। চাকরী না থাকায় প্রভাব পড়ল সংসারে, দেখা দিলো অভাব। এসময় তার স্ত্রী জোসেফিন তার দুই মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন বাবার বাড়ি। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে লিটল রক নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে বছর তিনেক প্র্যাকটিস করে বেশ কিছু টাকা আয় করেন স্যান্ডার্স। টাকার মায়ায় বাধা না পড়ে স্যান্ডার্স আইন পোশাকে বিদায় জানিয়ে আবার ফিরে আসেন তার মায়ের কাছে।

১৯১৬ সালে একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি নেন। বীমা কোম্পানির চাকরিতেও বেশিদিন থাকতে পারেননি। বীমা কোম্পানির চাকরি হারানোর পর কিছুদিন কাজ করেছিলেন সেলসম্যানের। স্যান্ডার্স ১৯২০ সালে গড়ে তোলেন একটি নৌকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তার নৌকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নদীতে চলাচলকারী ডিঙ্গি নৌকা বিক্রি করতো। ডিঙ্গি নৌকা বিক্রির পাশাপাশি ১৯২২ সালে চাকরি নেন ইন্ডিয়ানার চেম্বার অব কমার্সে। কিছুদিন যেতে না যেতেই এক সময় এ চাকরিও ছেড়ে দেন তিনি। শুধু তাই নয় ডিঙ্গি নৌকার প্রতিষ্ঠাসটিও বিক্রি করে দেন ৩৩ হাজার ডলারে।

কেএফসি- কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন এর রহস্য
Source: দক্ষিণবঙ্গ ডেক্স

এরপর পাড়ি জমান কেন্টাকি রাজ্যের উইনচেস্টারে। এখানে এক টায়ার কোম্পানিতে সেলসম্যানের চাকরি নেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুরু করলেন শৈশবের শখ রান্না করা। নতুন করে শুরু করলেন ফ্রাইড চিকেনের রেসিপি আর পরিচিতিদের খাওয়াতে শুরু করলেন। ১৯২৪ সালে টায়ার কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে পরিচয় হয় কেন্টাকির স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে। তিনি তাকে নিকোলাসভ্যালির এক সার্ভিস স্টেশনে চাকরি দেন। অদ্ভুদ ব্যাপার হলো ১৯৩০ সালে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন-

১. কালোজিরার ব্যবহার, উপকারিতা ও চাষাবাদ

২. সাত রং চা বা সাত লেয়ারের সাত রকম স্বাদের চা

৩. এক নজরে জেনে নিন বংলার প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য

কোনো কুল কিনারা না পেয়ে এ সময় তিনি ভোক্তাদের কাছে খাবার সরবরাহের কাজ শুরু করেন। একনকার মতো চকচকে চকচকে দামী কোনো রেস্তোঁরা ছিলো না তখন। স্যান্ডার্স কাজ শুরু করেন তার নিজের বাড়িতেই। তখন তার খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করায় ১৯৩৯ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশেভ্যালিতে একটি মোটেল ভাড়া নেন স্যান্ডার্স। দূর্ভাগ্য ওই বছরই নভেম্বর মাসে আগুন গেলে দোকানটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।

যার জীবন সংগ্রামে গড়া, তিনি কেনো পিছু হটে যাবেন?

এবার তিনি মেটেলটিকে ১৪০ আসনের একটি রেস্টুরেন্টে রুপ দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো তার এই ব্যবসা। এরপর ১৯৫২ সালে স্যান্ডার্স “চিকেন ফ্রাই” ধারণাটাকে তার আয়ের উৎসে পরিণত করার উদ্দেশ্যে একটি উপযুক্ত রেস্তোরা খোঁজা শুরু করেন। না পেয়ে শেষমেষ স্যান্ডার্স ও তার স্ত্রী মিলে সেলবাই ভ্যালিতে একটি রেস্টুরেন্ট খুলে বসেন। যেহেতু কেন্টাকি থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো, তার স্মরণে এই নাম রাখা। এর নাম দিলেন “কোন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন”। একটি ইতিহাসের গোড়াপত্তন ঘটে এর মাধ্যমে। সেই রেস্তোরায় আজকের কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন। যা কেএফসি নামে সারাবিশ্বে পরিচিত।

তাঁর বাউন্ডুলেপনা মেনে নিতে পারেননি স্ত্রী জোসেফিন। ১৯৪৭ সালে জোসেফিনের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যায় হারল্যান্ডের। অবশ্য ভাঙার আগেই প্রেমে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। নিজের দোকানের কর্মী ক্লদিয়াই ছিলো তার প্রেমিকা। মূলত ক্লদিয়ার উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় নতুনভাবে পথ চলতে শুরু করে কেএফসি। এই ক্লাদিয়াকে ১৯৪৯ সালে বিয়ে করেন সান্ডার্স। ১৯৫৫ সালে স্যান্ডার্স কেএফসির ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেন এবং ১০ বছরের মধ্যে কানাডা, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কেএফসির ৬০০ টি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে কেএফসি নিয়েও বেশি দিন থাকতে পারেননি হারল্যান্ড।

বেশি দিন কোনও কিছুই ভালো লাগতো না তাঁর। একঘেয়ে লাগতে শুরু হওয়ায় ১৯৬৪ সালে বিক্রি করে দেন কেএফসি। মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে হাতছাড়া করেন কেএফসি। বিক্রির সময় দুই পক্ষই একটি চুক্তি করেছিলেন। তাহলো লেগোতো হারল্যান্ডের ছবি থাকবে, আর এর বিনিময়ে মোটা পারিশ্রমিকও পাবেন হারল্যান্ড। কোম্পানির হাতবদলের পরে মনে হয়েছিলো তিনি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আরও বেশি অর্থ পাওয়া উচিত ছিলো। তাই তিনি কোম্পানি বিক্রির পরে কোর্টে মামলায় গেলেন। কিন্তু অনেক দেরী হওয়ায় নতুন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেও সুবিধে আদায় করতে পারেননি তিনি। ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৯০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কেএফসি- কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন এর রহস্য
Source: দক্ষিণবঙ্গ ডেক্স

বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঝলসানো, মসলাযুক্ত এবং মজাদার মুরগীর মাংসের স্বাদ কেএফসি কে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দিয়েছে। বিশ্বের ১০৫টি দেশে এর ১৪ হাজারেরও বেশি আউটলেট আছে। কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন (কেএফসি) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে বেড়ে উঠা একটি ফুড চেইনকে বুঝায় যা মূলত এর ফ্রাইড চিকেনের জন্য সুখ্যাতি লাভ করেছে। ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াম, ব্র্যান্ডস ইনকরপোরেটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালে এই কোম্পনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কর্নেল হারল্যান্ড স্যান্ডার্স। কোম্পানির নাম কেএফসি রাখা হয় ১৯৯১ সালে। তবে ২০০৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে এর সকল স্বাক্ষর প্রাকেজিং এবং বিজ্ঞাপনের জন্য পুরো নাম কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন ব্যবহার শুরু করা হয়েছিলো। এটি মুলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির ব্র্যান্ডে সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনার জন্যই এ কাজটি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা রেস্তোঁরাগুলোতে স্যান্ডার্সের নতুন স্বাক্ষর এবং প্রতীক হিসাবে তার ছবি ব্যবহৃত হবে। এর আগের রেস্তোঁরাগুলোতে ১৯৯১ সালের পুরনো প্রতীকই ব্যবহার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে কেএফসি

অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কেএফসি খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ২০০৬ সালে প্রথম রাজধানীর গুলশানে ইয়াম ইন্টারন্যাশনালের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসাবে যাত্রা করে কেএফসি। পরে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের ব্যানারে চলে আসে। সে থেকে বর্তামানে ট্রান্সকম ফুড লিমিটেড পরিচালনা করছে কেএফসি। বর্তমানে বাংলাদেশে কেএফসির প্রায় ২১টির মতো শাখা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৮টি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটে একটি করে কেএফসির শাখা রয়েছে। প্রতি বছরই রেস্টুরেন্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা থকাছে। আয়-ব্যয় ও গ্রাহকের সার্ভিস সক্ষমতা মাথায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে কেএফসি। এ সবকিছু বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাখা বাড়ানো হচ্ছে।

কেএফসির রৈতী ভাজা মাংস খেয়ে আঙুল চাটেনি এমন মানুষ উন্নত বিশ্বে বিরল। কেএফসিতে সার্ভিসিংয়ের পাশাপাশি এর পেছনে যারা কাজ করেন, তাদের টিম মেম্বার বলা হয়। তাদের বেশিরভাগই তরুণ প্রজন্মের। এ টিম মেম্বাররাই ধীরে ধরে ম্যানেজার, শিফট ম্যানেজার, রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার ও ব্রাঞ্জ ম্যানেজারে পদোন্নতি পেয়ে এখানেই উন্নত ক্যারিয়ার গড়েছেন। তাদের মধ্যে সুপার পারফরমাররা বিদেশি ব্র্যান্ডেও চাকরি পাচ্ছেন। উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ ও কাঠোর নিয়মাবলির মধ্যে থেকে টিম মেম্বাররাই ধীরে ধীরে করপোরেট এক্সিকিউটিভ হিসাবে বাংলাদেশের ফুড সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কেএফসি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করায় এর স্বীকৃতিস্বরূপ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রেস্তোঁরা মালিকরা এই নামটি খাদ্যের মান হিসাবে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কোন রেস্তোঁরায় যদি কেএফসির সমমানের খাদ্যমান বজায় রাখতে পারে তাহলে তাদেরকে এই নামে অখ্যায়িত করা যাচ্ছে।

Related Articles

Back to top button