fbpx
বিশেষ সংখ্যা

পঙ্গপাল কী? এর আক্রমণ হতে কীভাবে সমাধান পাবেন?

দক্ষিণবঙ্গ ডেস্কঃ পঙ্গপাল হলো Acrididae পরিবারে ছোট শিংয়ের বিশেষ প্রজাতি যাদের জীবন চক্রে দল বা ঝাঁক বাধার পর্যায় থাকে।

পঙ্গপাল এর জীবনচক্র

এই পতঙ্গগুলো সাধারণত একাই থাকে কিন্তু বিশেষ অবস্থায় তারা একত্রে জড়ো হয়। তখন তাদের আচরণ ও অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে সঙ্গলিপ্সু হয়ে পড়ে।

পঙ্গপাল এবং ঘাস ফড়িংয়ের মধ্যে কোন পার্থক্যগত শ্রেণীভাগ নেই। বিশেষ অবস্থায় তাদের প্রজাতিরা একত্র হওয়ার যে প্রবণতা দেখায় সেটাই মূল পার্থক্য।

একা থাকা অবস্থায় এই ঘাস ফড়িংগুলো অনপকারী, তারা সংখ্যায় থাকে কম এবং কৃষির জন্য বিরাট কোন আর্থিক ক্ষতি করে না।

তবে অনাবৃষ্টির পর দ্রুত ফসলের বর্ধন হলে এদের মস্তিষ্কে থাকা serotonin (সেরোটোনিন) তাদের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তনের সূত্রপাত করে।

ফলে তারা প্রচুর পরিমানে ও দ্রুত জন্মদান শুরু করে।

তখন তারা একত্রে থাকে, যখন তাদের সংখ্যা বেশি হয় তারা যাযাবর হয়ে পড়ে। এতে থাকে পাখাবিহীন ছোট পঙ্গপাল যেটা পরে পাখা জন্মে দলে যোগ দেয়।

এই পাখাবিহীন এবং পাখনাসহ পঙ্গপালের দল একসাথে চলাচল করে এবং দ্রুত ফসলের মাঠের ক্ষতি করে।

পূর্নবয়স্ক পঙ্গপাল শক্তিশালী উড্ডুক্কু তারা অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে পারে আর পথে যেখানেই থামে সেখান থেকে ফসল খেয়ে শক্তি অর্জন করে।

পঙ্গপালের এই মরক তৈরি করার ইতিহাস বহু পুরনো। পুরনো মিশরীয়রা তাদের কবরে এদের একেছিল। ইলিয়ড, বাইবেল এবং কোরান ইত্যাদি গ্রন্থে এর উল্লেখ আছে।

পঙ্গপালের দল ফসল ধ্বংস করে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করেছে যার ফলে মানুষ প্রচরণশীল হয়েছে।

আরো সাম্প্রতিক সময়ে, কৃষিক্ষেত্রে নীতি পরিবর্তনের ফলে যেখানে এই দল উৎপন্ন হতে পারে তা বের করে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করা যায়।

রনো নিয়মের মধ্যে রয়েছে বাতাসে বা মাটিতে কীটনাশক ব্যবহার।

কিন্তু অন্য ব্যবস্থা যেমন জীববিজ্ঞান ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ করে ভাল ফল পাওয়া গেছে।

দল বানানোর প্রবণতা বিংশ শতাব্দিতে কমে গেছে কিন্তু আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পঙ্গপাল

অনুকূল অবস্থায় যে কোন সময় দল গড়তে পারে যার ফলে দুর্ভিক্ষের সম্ভবনা রয়েছে।

পঙ্গপাল ইতিহাস

পঙ্গপাল বড় প্রাণী এবং সহজেই গবেষণা বা জীব বিদ্যায় পরীক্ষা করার কাজে শ্রেণীকক্ষে ব্যবহৃত হতে পারে। এদের খাওয়াও যায়; ইতিহাসে তাই দেখা যায়।

কিছু কিছু দেশে এদের খাদ্য হিসেবে অত্যন্ত উপাদেয় বিবেচনা করা হয়। ইংরেজি “locust” বা পঙ্গপাল শব্দটি এসেছে Vulgar Latin শব্দ locusta (লোকাস্টা) থেকে,

যার অর্থ লবস্টার (lobster) বা লোকাস্ট । করোনাভাইরাস, বিশ্বমন্দা, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর এখন আমাদের সামনে পঙ্গপালের আস্ফালন।

গত কয়েকমাস ধরেই এর ভয় ক্রমশ বাড়লেও যে মুহূর্তে ভারতে হানা দিয়েছে এই পঙ্গপাল, সে-ই থেকে প্রশ্ন চলে আসছে- কতটা ভয়ংকর এই পঙ্গপাল?

কী ক্ষতি তারা করতে পারে? এর বিরুদ্ধে আমরাই বা কী করতে পারি?

আরও পড়ুন-

১। জীবনে সফল হওয়ার কিছু ব্যর্থতার গল্প
২। স্বর্ণযুগে মুসলমানদের সঙ্গীতচর্চা কি বৈধ না অবৈধ?
৩। সাত রং চা বা সাত লেয়ারের সাত রকম স্বাদের চা

পঙ্গপাল বা লোকাস্ট (Locust) নামে যে পোকাকে আমরা জানি, তা মূলত ঘাসফড়িং বলে মনে করা হলেও আদতে সেটা ঘাসফড়িং নয়।

কেউ কেউ একে ঝিঁঝিঁ পোকা বলেও ধারণা করেন। সেটাও সত্যি নয়। সমগোত্রীয় হলেও বাকি দুটি পতঙ্গের চেয়ে লোকাস্টের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

লোকাস্ট মূলত মরু এলাকার পতঙ্গ। তবে যে জিনিসটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তাদের অন্য পতঙ্গ থেকে আলাদা করেছে তা হলো এর জীবনের দুটি পর্ব।

সাধারণ অবস্থায় এটি যে অবস্থায় থাকে একে বলা হয় সলিটারি ফেইজ। এই অবস্থায় এরা একা একা বাস করে। কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে থাকলে,

অর্থাৎ খাবারের প্রাচুর্য, জলবায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ আর তাপমাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ হলে এরা গ্রেগারিয়াস ফেইজ নামের পরের ধাপে যায়।

এই অবস্থায় লোকাস্ট যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাণীতে পরিণত হয়। তাদের মস্তিষ্কের আকার বাড়ে, গাঠনিক বড় ধরনের পরিবর্তন তো হয়ই,

উপরন্ত এদের আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটে। কার্টুন পকেমোনের চরিত্রগুলোর নিজেদের বদলে নেয়ার মতোই চমকপ্রদ লোকাস্টের এই পরিবর্তন।

সলিটারে ফেইজে লোকাস্ট আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ না হলেও গ্রেগারিয়াস পর্বে এরা দলবদ্ধভাবে চলাচল করে।

এই সময়ে এদের মধ্যে খাবারের রুচি এবং চাহিদাও বাড়ে। একইসাথে তাদের ক্ষিপ্রতা বাড়ে এবং সহনশক্তির বিশাল পরিবর্তন দেখা যায়।

ঠিক কবে তাদের এই পর্ব পরিবর্তন হয়, সেটা সঠিকভাবে বলা কঠিন। অনুকূল পরিবেশে যেকোনো সময় এই পরিবর্তন দেখা যায়।

অনুকূল পরিবেশ বলতে যখন বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ থাকে, আশেপাশে প্রচুর সবুজ গাছ থাকে এবং মাটিতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন এই পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়।

পঙ্গপাল কত ভয়ষ্কর

একেকটি লোকাস্ট একত্রে মিলে সোয়ার্ম নামের গ্রুপ গঠন করে এবং তার চলার পথের সবকিছুকে তছনছ করে দিতে সক্ষম।

এই সময়ে এরা গাছের পাতা, কান্ড, ফুল, ফল, বীজ থেকে শুরু করে সকল ধরনের ফসল সাবাড় করে দিতে পারে।

কিন্তু কত বড় হতে পারে এমন লোকাস্ট সোয়ার্ম? অবাক করা ব্যাপার হলো, ২০২০ সালে কেনিয়াতে

যে সোয়ার্ম পাওয়া গিয়েছে তার আয়তন ২,৪০০ বর্গ কিলোমিটার!

প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি এমন লোকাস্ট থাকতে পারে। একেকটি সোয়ার্ম একদিনে প্রায় ২,৫০০ মানুষের খাবার গ্রাস করে নিতে সক্ষম।

এবং সঙ্গত কারণেই একে বলা হয় পৃথিবীর অর্থনীতিতে সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলা প্রাণী। মূলত আফ্রিকা মহাদেশ, এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য,

পাকিস্তান ও ভারতের পশ্চিমের মরু অঞ্চলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তবে এই পঙ্গপালের আক্রমণ এবারই নতুন নয়।

হাজার হাজার বছর ধরে অনেক সভ্যতাতেই এর আক্রমণের নজির পাওয়া গেছে। এমনকি খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালে মিশরীয় সভ্যতায় পাথরের

গায়ে খোদাই করে লোকাস্টের ছবি আঁকা পাওয়া গেছে যা দ্বারা আদিকালেও এর আক্রমণের ধারণা পাওয়া যায়।

বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থেও এই আক্রমণের কথা স্থান পেয়েছে।

আরো পড়ুন- আদা খাওয়ার অজানা উপকারিতা ও অপকারিতা

কিন্তু হুট করে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার এর আক্রমণ অনেক বেশি বিস্তৃত। এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে ধরা যেতে পারে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে ভারত মহাসাগরের পানি ক্রমশ গরম হয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে পূর্ব আফ্রিকারে বৃষ্টি হয়েছে এবার তীব্রভাবে।

এতই তীব্র যে খা খা মরুর পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও কেনিয়াতে ২০১৯ সালের শেষের দিকে বন্যা দেখা দেয়।

এবং এই বন্যা এই এলাকাতে এই পতঙ্গের জন্য যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে ফেলে। দুর্দান্তরকম সংখ্যাবৃদ্ধির পর সেখানে পতঙ্গগুলোর

গ্রেগারিয়াস পর্ব শুরু হয় এবং পুরো পূর্ব আফ্রিকা জুড়ে তোলপাড় করে, বাতাসের বেগের কারণে পূর্ব দিকে উড়ে গিয়ে ইরান,

পাকিস্তান ও ভারত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এই ত্রাস। এই সমস্যা আরো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে। আম্পানের বাতাসের গতি

এই লোকাস্ট সোয়ার্মকে আরো পূর্ব দিকে নিয়ে আসছে। এবং এরই মধ্যে ভারতের মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, হারিয়ানা ও দিল্লিতেও এই সংক্রমণ দেখা গেছে।

পঙ্গপাল কী এর আক্রমণ হতে কীভাবে সমাধান পাবেন
Source: দক্ষিণবঙ্গ ডেস্ক

পঙ্গপাল এর বিষ প্রয়োগ

এই সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রথমত যেটি সামনে আসে সেটি হলো কীটনাশক ছিটিয়ে দেয়া। হোক সেটা মাটিতে বা হেলিকপ্টার বা ড্রোনের মাধ্যমে আকাশে।

কিন্তু এখানে যে অসুবিধাটি রয়েছে সেটি হলো- কীটনাশক প্রচন্ড বিষাক্ত হওয়ায় পতঙ্গ দমন হলেও পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সম্ভাবনা থেকে যায়।

এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো এখানে কীটনাশকের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিতে হয় যার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা আরো বাড়তে শুরু করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক যেসকল অক্ষতিকর কীটনাশক রয়েছে, সেগুলো প্রকৃতিতে ক্ষতিকর প্রভাব না ফেললেও এই পতঙ্গের উপর দ্রুত

কোনো কার্যকরী ফলাফল আনতে পারে না। তবে এই পতঙ্গ জোরালো শব্দ এড়িয়ে চলে, তাই মুখের চিৎকার হোক কিংবা স্পিকারের গানের আওয়াজ,

তাদের সেই এলাকা থেকে দূরে রাখতে পারে।

পঙ্গপাল কতটা ভয়ঙ্কর এই?

১৯৯৩ সালে ব্যাপক আকারে পঙ্গপালের আক্রমণের মুখে পড়ে পাকিস্তান। এই ধাপে ২০১৯ সালের মার্চে পাকিস্তানে প্রথম পঙ্গপালের আক্রমণ শনাক্ত হয়।

পরে এটি সিন্ধু, দক্ষিণ পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশের ৯ লাখ হেক্টর এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোটি কোটি রুপি মূল্যের ফসল ও গাছপালা।

ভারত-পাকিস্তানের বাইরে সৌদি আরবও পঙ্গপালের আক্রমণের মুখে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে,

পতঙ্গটির আক্রমণ দেশটির কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

পঙ্গপাল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা

পঙ্গপাল নিয়ন্ত্রণে বাতাসে বা মাটিতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে আফ্রিকায় পঙ্গপালের

যে ভয়াবহতা তাতে শুধু কীটনাশক ব্যবহারে ফল মিলবে না বলে মনে করছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা।

তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা পঙ্গপালের আক্রমণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন।

জাতিসংঘের পঙ্গপাল পূর্বাভাস বিষয়ক কর্মকর্তা কিথ ক্রিসম্যান বলেন,

ওমানের মরুভূমিতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক বৃষ্টি হওয়ায় এই পঙ্গপালগুলো আফ্রিকায় চলে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা জানি ঘূর্ণিঝড় থেকেই্ এই পতঙ্গের আগমন ঘটে। বিগত ১০ বছরে ভারত সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংস্থাটির প্রধান মার্ক লোকক বলেন, আফ্রিকায় এই ভয়াবহ পঙ্গপাল উদ্বেগজনক হারে ফসল ধ্বংস করছে।

ইতোমধ্যেই খাদ্য স্বল্পতায় থাকা পরিবারগুলো তাই আরও বিপাকে পড়েছে। এতে আপাতত সরে গেলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

চীন এই সমস্যার সমাধান হিসেবে পাকিস্তানকে পাঠিয়েছে হাঁস।

হাঁসবাহিনী একটু ধীরে হলেও এই পঙ্গপালের ভালো রকমের ক্ষতিসাধন করে ফেলতে পারে।

কিন্তু ক্ষিপ্রতার কারণে পঙ্গপালের করা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা ঠিক সম্ভব হচ্ছিল না।

গা গুলিয়ে ওঠার মতো হলেও অনেক দেশ এই লোকাস্টকে খেয়ে এই সমস্যার সমাধান করে আসছে।

বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় পঙ্গপাল দারুণ জনপ্রিয় খাবার।

ঐতিহাসিকভাবে এসকল দেশে অনেক সময় এই পঙ্গপাল সম্পূর্ণ ফসল ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে পঙ্গপাল পুষ্টির হিসেবে কিন্তু মোটেও পিছিয়ে নেই।

মুরগী, মাছ আর ডিম-দুধের চেয়েও প্রোটিনের হিসেবে যোজন যোজন এগিয়ে আছে এই লোকাস্ট।

ইসলাম ধর্মে পঙ্গপালকে হালাল এবং ইহুদি ধর্মে একে ‘কোশের’ বা বৈধ বলে ধরা হয়, যার কারণে এই দুই ধর্মে ধর্মীয়ভাবেও এটি খেতে কোনো বাধা নেই।

তবে খাওয়ার মাধ্যমেও আসলে একে নির্মূল বাস্তবে সম্ভব নয়। এরা সংখ্যায় এত বেশি যে আপনি কতটুকু খেয়ে এর বিস্তার রোধ করবেন সেটি একটি জটিল হিসেব।

এছাড়া অনেক অঞ্চলে এদের ওপর কীটনাশক ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে, যার কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও থেকে যায়।

এমন অবস্থায় মোহাম্মদ খুরশিদ নামের এক পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা ও জোহার আলি নামের

একজন বায়োটেকনোলজিস্ট মাথায় একটি যুগান্তকারী আইডিয়া চলে আসলো।

পঙ্গপাল কী এর আক্রমণ হতে কীভাবে সমাধান পাবেন
Source: দক্ষিণবঙ্গ ডেস্ক

পঙ্গপাল বিক্রি

পাকিস্তানের ওকারা শহরে প্রথমত টেস্ট হিসেবে এই আইডিয়ার সুফল পাওয়া গেলে দেশব্যাপী বড় পরিসরে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়।

কী ছিল এই আইডিয়া? পাকিস্তান সরকার কৃষকদের, যারা মূলত প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত এই হামলায়, তাদেরকে বলা হয় এই পতঙ্গগুলোকে ধরে আনতে,

এবং প্রতি কেজি এমন লোকাস্টের জন্য তারা ২০ পাকিস্তানি রুপি করে পাবেন। এই পতঙ্গগুলোকে রাতের বেলায় জাল দিয়ে ধরা খুবই সহজ।

আরও পড়ুন-
১। পিঁপড়া সম্পর্কে অজানা তথ্য, জানলে অবাক হবেন!
২। “মৌমাছি” মহান সৃষ্টিকর্তার সহস্যময় এক সৃষ্টি
৩। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে হুমকির মুখে জেলেদের জীবিকা

লোকাস্ট সাধারণত দিনের বেলায় ওড়ে এবং রাতে নিস্তেজ হয়ে ভূমিতে বিশ্রাম নেয়।

ঘোষণার প্রথম দিনে ওকারা জেলাতে ৭ টন এমন লোকাস্ট সংগ্রহ করেন কৃষকরা, এবং অনেক কৃষক একরাতেই বিশ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করেছেন।

এই পঙ্গপালকে পরবর্তীতে প্রক্রিয়াজাত করে পোল্ট্রি ফার্মে চিকেন ফিড বা মুরগীর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পোল্ট্রি শিল্পের জন্য এই ঘটনা হয়ে গেছে শাপে বর।

সাধারণ অবস্থায় সয়াবিন দিয়ে চিকেন ফিডের প্রোটিন অংশ পূরণ করা হয় যা মূলত আমদানী নির্ভর।

সয়াবিনে প্রোটিন রয়েছে এর ওজনের ৫০%। অপরদিকে লোকাস্ট সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তান সরকার এসব পোল্ট্রি ফার্মকে দিচ্ছে কয়েকগুন কম দামে।

আবার লোকাস্টে প্রোটিন রয়েছে এর ওজনের ৭০%। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে তীব্র হাহাকার চলা পাকিস্তান সরকারের কাছেও এই প্রকল্পটি অত্যন্ত লাভজনক,

কারণ আগের মতো সয়াবিন আমদানি করে পাকিস্তানকে তার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হচ্ছে না।

এই অভাবনীয় সমাধান শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সাদরে গ্রহণ করা হচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানের ভারতের আরএসএসও

পাকিস্তানের এই কাজের প্রশংসা করে ভারতেও অনুরূপ প্রকল্পের জন্য সরকারকে আহ্বান করেছে।

বিশ্বব্যপী স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ এই পঙ্গপালের হামলা মোকাবেলায় এই আইডিয়ার কার্যকারিতা কেমন তা প্রমাণ এখন সময়ই করতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button