fbpx
বিশেষ সংখ্যা

বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর তেজগাঁও

দক্ষিণবঙ্গ ডেস্কঃ বাংলাদেশ বিমান জাদুঘর। জাদুঘর বলতে বোঝায় এমন একটি ভবন বা প্রতিষ্ঠান যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সংগ্রহ সংরক্ষিত থাকে। বাংলা জাদুঘর শব্দটির ইংরাজি প্রতিশব্দ হল মিউজিয়াম। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অফ মিউজিয়াম এর ভাষ্যমতে জাদুঘর হল একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত এবং স্থায়ী সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা শিক্ষালাভ, জ্ঞানচর্চা ও আনন্দলাভের উদ্দেশ্যে মানব ঐতিহ্যের স্পর্শযোগ্য ও স্পর্শ-অযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করে, সংরক্ষণ করে, প্রদর্শন করে এবং সেগুলি নিয়ে গবেষণা করে।

আর এই বিমান বাহিনীর জাদুঘরটি অবস্থিত বাংলাদেশেই এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই ইচ্ছা করলে আপনিও এই বিমান জাদুঘরে ঘুরে আসতে পারেন। রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দরের পশ্চিম রানওয়েতে (আইডিবি ভবনের বিপরীত পাশে) অবস্থিত দেশের প্রথম এই বিমান জাদুঘর। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গৌরবময় ঐতিহ্যের ইতিহাস, সাফল্য ও উন্নয়নের ক্রমবিকাশকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াসে এই জাদুঘর ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে উদ্বোধন করা হয় এবং দেশি-বিদেশি সব দর্শকের জন্যই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বিমান বাহিনী জাদুঘরের প্রবেশ মূল্য মাত্র ২০ টাকা। টিকিট কাউন্টার অতিক্রম করলেই বামপাশে চোখে পড়বে নীলাদ্রি। এই দোকানে পাওয়া যাবে বিমান বাহিনীর স্মারকসহ আরো অনেক কিছু। আবার ডান পাশে জাদুঘরের অফিস পার হলেই একটু সামনেই চোখে পড়বে একটি মানচিত্র। মানচিত্রে এক নজর চোখ বুলালেই আপনার ধারণা হয়ে যাবে পুরো জাদুঘরের সম্পর্কে, জাদুঘরের কোথায় কী আছে তার পুরো ধারণা আপনার হয়ে যাবে।

মানচিত্র দেখার পর সামনের দিকে গেলেই আপনার চোখ আটকে যাবে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারায়। আর পানির ফোয়ারার পাশেই রাখা হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি বিমান এন-২৪ পরিবহন বিমান। এটি বাংলাদেশের সর্বপ্রথম যাত্রীবাহী বিমান। ৪৪ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার এই বিমান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করতেন। বিমানটি রাশিয়ায় তৈরি, এই বিমান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বলাকা নামে সংযোজিত হয়। আর কালের বিবর্তেনে তৎকালীন সেরা বলাকা বিমানটি আপনি চাইলে চড়ে দেখতে পারেন। শুধু ৩০ টাকার দামের টিকিট কিনে ঘুরে দেখতে পারেন পুরো বিমানটি। আবার সবচেয়ে ভালো এটা সুবিধা হলো আপনি চাইলে সারাদিন ঘুরতে পারেন তার জন্য বিমানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুব্যবস্থা রয়েছে।

বিমান বলাকার পাশেই রয়েছে দুটি রাডার। পি-৩৫-এম ও পিআরভি-১১ নামের রাডার দুটি। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়াতে বিমানকে সঠিক নির্দেশনা দেওয়া পুরাতন এই রাডারটিকে খুব কাছে থেকে দেখে নিতে পারবেন আপনি। বাংলাদেশকে এই বিমানটি দিয়েছে চীন সরকার।

বিমান জাদুঘরে আপনি আরো দেখতে পাবেন এমআই-৮ নামের দুটি হেলিকপ্টার। রাশিয়ায় তৈরি হেলিকপ্টার দুটি ১৯৭২ সালে সংযোজিত হয়ে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হেলিকপ্টার দুটিতেও চড়তে পারেন মাত্র ৩০ টাকার বিনিময়ে। বিমান জাদুঘরে রয়েছে গ্লাইডার বিমান, রয়েছে টি-৩৭, ফুগা সিএম-১৭০ ম্যাজিস্টার, পিটি-৬ ও এয়ার টুওরার ট্রেইনার নামের প্রশিক্ষণ বিমান। এই বিমানগুলো আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে।

বিমান জাদুঘরে চোখে পড়বে এয়ারটেক কানাডিয়ান ডিএইচই-৩/১০০০ অটার। এই বিমানটিকে বোমারু বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিমানটি দ্বারা ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আক্রমণের মাধ্যমে ইস্টার্ন তেল শোধনাগার এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সফল অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর ব্যবহৃত তিনটি যুদ্ধবিমান হান্টার, মিগ-২১ এফএল এবং ন্যাটও জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে ভূমি শত্রু থেকে রক্ষা করতে এই হান্টার বিমানটি ব্যবহার করে । মিত্র বাহিনীর এই বিমানটিকেও রাখা হয়েছে বিমানবাহিনীর জাদুঘরে । ভারতীয় বিমানবাহিনীবাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এই বিমানগুলো উপহার দেয়। এ ছাড়া রয়েছে যুদ্ধবিমান এফটি-৫, এফটি-৭ প্রশিক্ষণ বিমান ।

১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর, বিজয়ের মাত্র পাঁচদিন আগে টাঙ্গাইলে সেনা নামানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি বিমান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাযুদ্ধে লড়াইয়ে এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনী গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিমানের। সেই বিমানটির নাম ডাকোটা বিমান। এত দিন বিমানটি ভারতেই ছিল। মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতি বিজড়িত এই ডাকোটা বিমান ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার দেয়। সেই ঐতিহাসিক ডাকোটা (ডিসি-৩) বিমানটিও আছে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী জাদুঘরে । ১৯৭১ সালে এই ডাকোটাসহ তিনটি বিমান নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ওই সময় ভারত এই বিমান দিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। ভারতের কাছ থেকে বিমানটি পাওয়ার পর বেসামরিক যাত্রী পরিবহনের কাজ করা হতো। পরে এটি যুদ্ধবিমানে রূপান্তর করা হয় ।

ডাকোটার পাশাপাশি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে ‘অ্যালিয়ট’ হেলিকপ্টার। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সেনানিবাসে আঘাত হানা হয়েছিল এই হেলিকপ্টার দিয়ে। তারপর হেলিকপ্টারটি ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৮৬ নামের যে বিমানটি ব্যবহার করে সেটিও আছে বিমান জাদুঘরে।

মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনীর শহীদদের স্মরণ করতে তৈরি করা হয়েছে শহীদ কর্নার। সেখানে দেখে আসতে পারেন শহীদদের ভাস্কর্য। সাময়িক হাল্কা খাবারের জন্য স্কাই মেন্যু নামে আছে একটি স্ন্যাক্সের দোকান। একটুখানি বিশ্রাম এবং পিজা, বার্গারসহ বিভিন্ন রকমের হাল্কা খাবার পেতে পারেন এখানে। বিমান বাহিনী জাদুঘরের ডানদিকে রয়েছে বিভিন্ন রকমের শিশুদের খেলার উপকরণ, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো চাইল্ড কর্নার । জাদুঘরের কর্মরত একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুব শিগগিরি এখানে যুক্ত করা হবে দোলনা, চরকা, মিনি ট্রেনের মতো দারুণ সব মজার জিনিস। দর্শনার্থীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন ভিন্নধর্মী এই জাদুঘরকে সাদরে গ্রহণ করেছে দেশবাসী।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিমান বাহিনী জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘর। রোববার রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য জাদু ঘরটি বন্ধ থাকে।

বিমান জাদুঘরে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন সুমন , সজল ও তাদের বন্ধুরা। দেশের প্রথম বিমান বলাকাকে দেখে তাদের ভেতরে গুঞ্জন তৈরি হয়। টিকেট কেটে তারা বিমানে উঠে বসলেন। নানা ভঙ্গিমায় ছবি তোলা তো রয়েছেই।
সুমন হোসেন বলেন, আজকে প্রথম এই জাদুঘরে ঘুরতে এসিছি খুব ভালো লাগছে ঐতিহাসিক বিমানগুলো দেখে। বিমানে উঠার শখও মিটলো, ইতিহাসও জানা হলো। বিমান বাহিনী জাদুঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে স্কাই পার্ক। সবুজ তৃণ আচ্ছাদিত স্কাই পার্কের প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। এতে রয়েছে জিরাফ, ঘোড়া, বাঘসহ শিশুদের জন্য নানা রকম বিনোদনের মাধ্যম। আলাদা টিকেট কেটে রেঞ্জার, সুইংচেয়ার, ব্রেক ডান্স, জ্যাম্পিং ফ্রগ, স্পিড কার, বেবি ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে উঠার সুযোগ রয়েছে। বোটে করে লেকে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ আর্কষণ সেভেন ডি মুভি থিয়েটার। দেখতে পাবেন হরর, ফ্যান্টাসি ও আডভ্যাঞ্চার মুভি। আপনাকে নিয়ে যাবে ভয়ঙ্কর ভূতের আস্তানায় বা কঠিন মৃত্যুপথে। থিয়েটার টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা।

বিমান বাহিনীর এই জাদুঘরে রয়েছে উনিশটি বিমান। এর মধ্যে তিনটি মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া রয়েছে ছোট ছোট বিমানের রেপ্লিকা। ত্রিশ টাকার টিকেটে জাদুঘরের মনোরম পরিবেশে বিমানগুলো ঘুরে ফিরে দেখতে পারে ভ্রমণকারীরা। ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িত বিমানগুলো দেখলে শরীরে রোমাঞ্চকর অনুভূতির উভলব্ধি হয়। পাশাপাশি সুযোগ না পাওয়া মধ্যবিত্ত মানুষের সিটে বসে বিমানের ভেতর দেখার সুযোগ রয়েছে।

বিমান জাদুঘরের স্কাই পার্কের সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের ডাকোটা বিমান আপনাকে স্বাগত জানাবে। ৫ হাজার পাউন্ড বোম্ব নিয়ে শত্রু মোকাবিলা করতো বিমানটি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ৩০ টাকার বিনিময়ে এতেও দর্শনার্থীরা উঠতে পারেন। এই জাদুঘরে দেখতে পাবেন হান্টার বিমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে শত্রু থেকে রক্ষা করতে এই বিমানটি ব্যবহার করে। ভারতীয় বিমান বাহিনী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে এটি উপহার দেয়।

এখানে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত প্রথম যুদ্ধ জাহাজ রয়েছে। বিমানটি তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে রয়েছে নরুল হুদা। তিনি বলেন, বিমানটিতে উঠলে মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ পাওয়া যাবে। শিশুরা যুদ্ধে বিমান বাহিনীর অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে। বিমান জাদুঘরে অন্য রাইড থাকলেও বিমানগুলোতেই মানুষের আগ্রহ বেশি। দেখে মনে হবে ঘাসের গালিচা বিছানো সবুজ মাঠ। সবুজ ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে ইট বিছানো হাটার রাস্তা। রাস্তা ধরে হাঁটলে আপনার চোখে পড়ে সারি সারি সাজানো উনিশটি বিমান। যার কোনোটা যাত্রীবাহী, কোনোটা আবার যুদ্ধ আবার কোনোটা প্রশিক্ষণ বিমান। জাদুঘর মাঠে দাঁড়ানো বিমান দেখে আপনার মনে হতে পারে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে আছে বিমান গুলো। বিমান গুলো যেনো অপেক্ষা করছে আকাশে ডানা মেলে উড়ার জন্য।

বাংলাদেশ বিমান জাদুঘরের প্রবেশ পথ ধরে একটু সামনের চোখে পড়ে বিশাল যাত্রীবাহী বিমান। বিমানে উঠার মুখে একজনের হাঁকডাক ‘বলাকা বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান। চাইলে ৩০ টাকায় প্রথম বিমান বলাকায় উঠুন, ইতিহাসের অংশ হউন! অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই বিমানের সামনে লাগানো সাইনবোর্ডে পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে। আগ্রহী হয়ে দর্শনার্থীরাও টিকেট কেটে বিমানে উঠছেন। কেউ কেউ নানা ভঙ্গিমায় ক্যামেরায় পোজ দিচ্ছেন।

উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইট বিমান আবিষ্কার করেছিলেন ১৯০৩ সালে। তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে প্রথম যাত্রীবাহী বিমান বলাকা আসে ১৯৫৮ সালে। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে স্বল্প সম্পদ আর জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। মুক্তিযুদ্ধ ও সংকটকালীন সময়ে অবদান রাখা বিমান বাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইতিহাসের সাক্ষী এই বিমানগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে বিমান বাহিনীর জাদুঘরে। এখানে রয়েছে স্মৃতি বিজড়িত প্রথম যাত্রীবাহী বিমান। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন কাঁপানো যুদ্ধ বিমানগুলোও রয়েছে।

জাদুঘরে স্থান পাওয়া বিমানগুলো  হান্টার বিমানঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় এই বিমানটির অংশগ্রহণ ও অবদানের জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে বিমানটি উপহার হিসাবে দেয়। এন-২৪ বিমানঃ রাশিয়ার তৈরি এই বিমানটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ১৯৭৩ সালে বলাকা নামে সংযোজিত হয়। বিমানটি সরকারিভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ব্যবহার করতেন।

এফ-৮৬ যুদ্ধবিমানঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই বিমানটি ব্যবহার করে। যুদ্ধে পাকবাহিনী বিমানটিকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। প্রথম বিমান বলাকাঃ বাংলাদেশের প্রথম যাত্রীবাহী বিমান বলাকা। রাশিয়ার তৈরি এই বিমানটি বাংলাদেশে আসে প্রথম ১৯৫৮ সালে। বর্তমানে এটা জাদুঘরে রাখা হয়েছে।

এছাড়াও সেখানে ঘুরতে আসা আরো অনেক ভ্রমণ পিপাসু লোকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন যে, এমন একটি জাদুঘর করার কতৃপক্ষদেরকে অনেক ধন্যবাদ। কেননা বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস রয়েছে এখানে যা মানুষের জানা দরকার। কেননা একটি দেশের ইতিহাস শুধুই ইতিহাস না, ইতিহাস হলো দেশের অহংকার এবং ঐতিহ্য। আর বিমান জাদুঘরে রয়েছে অনেক ইতিহাস সমৃদ্ধ বিমান যার প্রতিটির সাথে মিশে আছে হাজার হাজার গল্প হাজার হাজার ইতিহাস।
তা বাদেও বিমান জাদুঘরের সাথে মিশে আছে স্বাধীনতার ছাপ। আকাশ পথে যুদ্ধে অংশ থেকে যুদ্ধের পরবর্তীতে দেশের আকাশ পথের যাত্রা শুরু কিভাবে হয় এবং তখনকার যাত্রা পথ কেমন ছিল?

অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমান জাদুঘরে ঘুরে আসলে আপনি বিমানে চড়া সহ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সম্পর্কে যাবতীয় ধারণা পাওয়া যাবে। তাই সর্বপরি কথা হলো এই আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হলে আপনার উচিত একবার হলেও ঘুরে আসা।

সবার আগে সর্বশেষ নিউজ পেতে এড হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে দক্ষিণবঙ্গ

Related Articles

Back to top button