স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য অনুচিত

লেখক: Biplob Khan
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে


‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার ক্রসফায়ার চায় না; বরং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এর অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইজিপি অসাবধানতাবশত এমন মন্তব্য করেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক হয়নি, এটা হওয়া উচিত হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপি একজন সোজাসাপ্টা ব্যক্তি। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত এ বক্তব্য দেন তিনি। তবে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু সহ্য করবে না।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেছিলেন, সরকারি অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বল প্রয়োগ করলে একদল তাদের ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে, আর নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে আখ্যা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অপরাধ দমন ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বিচারবহির্ভূত হত্যা বা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা সরকার মেনে নেবে না।

এদিকে আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’-সংক্রান্ত বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। সেই দল দ্বারা গঠিত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পুলিশ প্রধান যে ‘ক্রসফায়ার’-সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়েছেন তা তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

আইজিপির মন্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এই সমালোচনার পর, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতর থেকে জারি করা এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি বিচারবহির্ভূত হত্যা বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি বোঝাতে ব্যবহার করেননি। ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করেছেন।



Source link