পিলখানা হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনা

লেখক:
প্রকাশ: ১৮ ঘন্টা আগে
ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ও রক্তাক্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত। রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা। দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, বরং নতুন করে যুক্ত হয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরক মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দিতে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বিস্ফোরক মামলার চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা এই মামলায় প্রায় সাড়ে আটশ’ আসামি রয়েছেন। মোট ১২০০ সাক্ষীর তালিকা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যে নতুন তথ্য উঠে আসায় মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে গত ৫ আগস্টের পর কয়েকশ’ আসামি জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল থাকে। ২৮৩ জন খালাস পান।

পিলখানার মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এখনো দেশের নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার জন্য এক বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে। নতুন করে উচ্চপর্যায়ের নাম যুক্ত হওয়ায় মামলাটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে জনমনে আবারও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

  • আদালত
  • জাতীয় সংবাদ
  • পিলখানা ট্র্যাজেডি
  • পিলখানা হত্যা
  • বাংলাদেশ রাজনীতি
  • বিডিআর বিদ্রোহ
  • বিডিআর মামলা
  • শেখ হাসিনা
  • হাইকোর্ট