দিল্লির ‘আতিথেয়তায়’ দিল মজেছে হাসিনার ছাড়তে নারাজ ভারত

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ minutes ago

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং ভারতে আশ্রয় নেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানালেও ভারত তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ইস্যু এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য জটিল কূটনৈতিক সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ভারত সরকার থেকে হাসিনাকে কাতারসহ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বরং তিনি ভারতে থেকেই জীবন শেষ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বহুবার ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর বক্তব্য, অন্যদিকে একজন বিতর্কিত সাবেক শাসককে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি ভারতের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত এখন এক ধরনের “দুই দিক সামলানোর” কৌশলে আটকে গেছে। একদিকে বাংলাদেশে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই অবস্থাকে তারা “শ্যাম রাখি না কুল রাখি” ধরনের কূটনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছেন।

সূত্র অনুযায়ী, দিল্লি আওয়ামী লীগের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে সাবের হোসেন চৌধুরী এবং রেদওয়ান সিদ্দিক ববির মতো ব্যক্তিদের সামনে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে— হাসিনাকে ফেরত দিলে রাজনৈতিক ঝুঁকি, আর না দিলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত হয়তো তাকে একটি “রাজনৈতিক তাস” হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন সেটিই তাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • আওয়ামী লীগ
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
  • কূটনীতি
  • দক্ষিণ এশিয়া
  • দিল্লি
  • নরেন্দ্র মোদি
  • বাংলাদেশ রাজনীতি
  • ভারত
  • শেখ হাসিনা