এবার ব্রেক ফেল করে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ভারতীয় যু'দ্ধ'বিমান তেজস
আবারও বিপত্তিতে পড়ল ভারতের হালকা তেজস যুদ্ধবিমান। সেনাঘাঁটিতে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে–মুচড়ে যায় বিমানটির কাঠামো। তবে দ্রুত ককপিট থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় পাইলট প্রাণে বেঁচে যান; হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গুরুতর ক্ষতির কারণে ভারতীয় বিমানবাহিনী কার্যত আরও একটি তেজস হারাল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে ঘাঁটিতে ফিরছিল যুদ্ধবিমানটি। অবতরণের সময় ব্রেক কাজ না করায় ‘ব্রেক ফেল’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিপদ আঁচ করে পাইলট জরুরি প্রক্রিয়ায় ককপিট ত্যাগ করেন। এর পরই বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে দূরে গিয়ে পড়ে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার পর তেজসের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে তৎপর হয়েছে Indian Air Force। প্রায় ৩০টি এক আসনবিশিষ্ট তেজস সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিমানের কারিগরি পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞদের ‘সবুজ সংকেত’ মিললেই সেগুলো আবার আকাশে ওড়ানো হবে।
তেজস সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও উৎপাদন ও সরবরাহ ঘিরে রয়েছে নানা জটিলতা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় Hindustan Aeronautics Limited–কে ৮৩টি তেজস তৈরির অনুমোদন দেয়; চুক্তির মূল্য ছিল ৪৮ হাজার কোটি রুপি। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়, যার চুক্তিমূল্য ৬২ হাজার কোটি রুপি।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহে বারবার ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। ইঞ্জিন সরবরাহ নিয়ে মার্কিন সংস্থা GE Aerospace–এর সঙ্গে জটিলতাও প্রকল্পকে প্রভাবিত করছে বলে জানা গেছে।
এই নিয়ে তেজসের তৃতীয় দুর্ঘটনা ঘটল।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা তেজসের কারিগরি নির্ভরযোগ্যতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।