ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমানসহ নবনির্বাচিত এমপিরা।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রথমে বিএনপির সংসদ সদস্যরা এবং পরে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নেন।
শপথ শেষে সংসদ সদস্যরা শপথপত্রে সই করেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সংসদীয় দলের বৈঠকের শুরুতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আজ আলাদাভাবে শপথ নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়।
সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এখন সবার নজর বিকেলের মূল শপথ অনুষ্ঠানের দিকে। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান।
একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ গ্রহণ করানো হবে। দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বঙ্গভবন-এর বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে বড় পরিসরে প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ১২ প্লাটুন বিজিবি। আজ সন্ধ্যাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন নির্বাচিত সরকার।