সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরের পর থেকে জেলার বুধহাটা, ধুলিহর, এবি খান ও আলিপুরসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খুলনা থেকে তেল সরবরাহের অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও সীমিত পরিমাণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও অধিকাংশ পাম্পে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন পাম্পে ভিড় বেড়ে চরম আকার ধারণ করে। সকাল থেকেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে।
এ সুযোগে খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফিলিং স্টেশনে তেল না মিললেও খুচরা দোকানে সহজেই পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক স্থানে পেট্রোল প্রতি লিটার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করেছে। একই দিনে সদর ও কলারোয়া উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক দুটি টিম অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে ঝাউডাঙ্গা ও মেসার্স হোসেনসহ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করা হয়। অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপুর নেতৃত্বে আলিপুর, সোনালী, কপোতাক্ষ, এবি খান ও সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্পে তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে রিজার্ভ ট্যাংক, সরবরাহ চালান এবং বিক্রয় ও মজুদ রেজিস্টার যাচাই করা হয়। জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ সংক্রান্ত ভাউচার দেখাতে না পারায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী দুটি পৃথক মামলায় মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাম্প মালিকদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।