Photo: Collected
কুষ্টিয়ার খোকসায় এক লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ দাবি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়া খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার) সোমবার (২ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার দিনগত রাতে ওসি মোতালেব হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তিনি দায়িত্বভার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মশারফ হোসেনের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। একই রাতে তিনি কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে যোগ দেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান বর্ষণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে তথ্য-প্রমাণ নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী বর্ষণ দাবি করেন, ওসি ক্লোজ হওয়ার পরও তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তার অভিযোগ, ওসির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাসীন দলের এক সাবেক নেতা তাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন এবং ওসির কাছে ক্ষমা চাইতে চাপ দিচ্ছেন। জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মামলা করার পরামর্শ দিলেও নিরাপত্তার কারণে তিনি এখনো মামলা করেননি বলে জানান।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বর্ষণ বলেন, গত ডিসেম্বরের শেষদিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিনের কাছে অজ্ঞাত ব্যক্তি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ফোনদাতার পরিচয় শনাক্ত করতে নাসির উদ্দিনের মাধ্যমে তার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ওসি নাসির উদ্দিনের জন্য এক লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ এনে দেওয়ার দায়িত্ব তার ওপর দেন।
বর্ষণ জানান, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ এনে দিলে ওসি তা ফেরত দেন। এরপর থেকে নানা অজুহাতে হুমকি-ধমকি শুরু হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ওসি তার দোকানে গিয়ে ল্যাপটপ অথবা সমপরিমাণ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে রাজন নামে এক ব্যক্তি তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকি দেন বলেও দাবি করেন বর্ষণ।
২২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে ২৪ ফেব্রুয়ারি হুমকির মুখে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে ফেলেন। গত শুক্রবার তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, তার কাছে চাঁদা দাবি করা ফোনের বিষয়ে জানতে ব্যবসায়ী বর্ষণকে দিয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে পরে উল্টো তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা হয়। তিনি স্বীকার করেন, ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ থানায় পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেটি ওসি ফেরত দেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি মোতালেব হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট মেম্বারের সঙ্গে তার কোনো দেখা বা কথা হয়নি। চাঁদা দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না। বর্ষণের দোকানে তিনি কেবল মালপত্র কেনার জন্য দুই-একবার গিয়েছেন বলে দাবি করেন।