ঈদের নামাজ পড়েই দুই পক্ষের সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে এই সংঘর্ষ শুরু হয় এবং টানা দুই ঘণ্টা ধরে চলে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতেও একই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, যেখানে অন্তত ১২ জন আহত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
স্থানীয়দের মতে, পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে একটি চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটির জেরে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের সঙ্গে কামরুল মিয়ার সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পরে বড় আকার ধারণ করে।
পরবর্তীতে দুই পক্ষ ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টর্চলাইট জ্বালিয়ে রাতভর চলে সেই সংঘর্ষ। পুলিশ ও স্থানীয় মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তেজনা কাটেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ঈদের নামাজ শেষে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে একাধিক বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আসাদুজ্জামান জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ থাকলেও তারা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঈদের মতো আনন্দঘন দিনে এমন সহিংস ঘটনা আবারও গ্রামীণ দ্বন্দ্ব ও সামাজিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরেছে।