ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচ। আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। তবে পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে ডেটা প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা অ্যানালিস্ট’ এগিয়ে রাখছে সেলেসাওদের।
জাপানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ব্রাজিল। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরো সমতা ফেরান। এরপর শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
মার্তিনেল্লির গোলটি তৈরি করে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট। এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের তালিকায় এখন তার ওপরে রয়েছেন কেবল কিংবদন্তি পেলে, যার নামের পাশে ১৯৭০ বিশ্বকাপে ছিল ৬টি অ্যাসিস্ট।
তবে ব্রাজিলের চিন্তার জায়গা আক্রমণভাগ। চার ম্যাচে ৬০টি শট নিলেও প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। ১৯৯৮ সালের পর এক আসরে এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন শট নেওয়ার রেকর্ড।
অবশ্য টানা চার জয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত আনচেলত্তির দল। ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টানা ১১ জয়ের পর এটিই তাদের দীর্ঘতম জয়ের ধারা। শেষ ষোলোর ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলে। এই পর্যায়ে ১০ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে তারা।
অন্যদিকে নরওয়ে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন আর্লিং হালান্ড।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হালান্ড নিজের শেষ ১৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই গোল করেছেন। এই সময়ে তার গোলসংখ্যা ২৫। ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচে গোল করা অষ্টম ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বেন তিনি।
মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত চারবারের দেখায় কোনো জয় নেই সেলেসাওদের। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি হয়েছে ড্র। এছাড়া ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউটে আর কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয় পায়নি ব্রাজিল।
তবে ইতিহাস নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অপ্টা সুপারকম্পিউটার বলছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ। নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ২২.৪ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাতেও এগিয়ে ব্রাজিল। অপ্টার হিসাবে শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৬৫.৬ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৪.৫ শতাংশ। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে।