ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদ দিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়া গ্রামে। স্থানীয় ইয়াছিন ও শাকিল ওই কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। তপ্ত রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনকারীদের মধ্যে এক ইউপি সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার কিশোর মো. হোসাইন (১৪) ওই গ্রামের মৃত মোছেন শেখের ছেলে। সম্প্রতি ঢাকার একটি ফার্নিচার কারখানা থেকে ছুটিতে বাড়ি আসে সে। ওই কারখানায় একটি ড্রিল মেশিন চুরির ঘটনায় তাকে সন্দেহ করে এই নির্যাতন চালানো হয়।
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কিশোরটিকে গাছের গোড়ায় বসিয়ে পায়ের পাতায় বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। পরে তার দুই হাত পেছন থেকে বেঁধে দাঁড় করিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও মারধর করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্লা। তার সহযোগী হিসেবে ইয়াছিন হোসেন (২২) ও শাকিল শেখ (১৯) অংশ নেয়।
ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন জানায়, ঢাকায় থেকে বাড়ি ফেরার পরদিন তাকে ঘরে আটকে রাখা হয় এবং পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কিশোরের মা বানু বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে বিনা কারণে মারধর করা হয়েছে। যারা করেছে, তাদের বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গ্রাম পুলিশ রাহাত ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে আটক করলেও পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান বলেন, “এ ঘটনা নিয়ে নানা জটিলতা চলছে, পরে কথা বলব।”
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, কিশোরের মা বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ভিডিও পর্যালোচনা করে ইয়াছিন শেখ, শাকিল শেখ ও বিল্লাল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।