ছবি: এ আই
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও গ্রামে বসবাস করে। দেশের কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই জনগোষ্ঠী। তবুও উন্নয়নের নানা সূচকে গ্রামের মানুষ এখনো শহরের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।
গ্রামীণ এলাকার মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগে বৈষম্যের শিকার হন। অনেক এলাকায় এখনো একটি ভালো হাসপাতাল, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। ফলে উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই শহরমুখী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে পারে না। গ্রামে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষির আধুনিকায়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে এই বৈষম্য কমানো সম্ভব।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। ইন্টারনেট সুবিধা, ডিজিটাল শিক্ষা, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা এবং ই-গভর্ন্যান্সের সেবা প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নত হলে শুধু তাদেরই নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অবহেলা নয়, সমান সুযোগ নিশ্চিত করলেই গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন ও টেকসই বাংলাদেশ।