ফরিদপুরের সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত আট একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং একটি জামে মসজিদ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর উত্তর-পশ্চিমে কবির মোল্লার বাড়ি থেকে দক্ষিণে মৃধাডাঙ্গী এলাকার আলেপ খাঁর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। আতঙ্কিত এলাকাবাসী নিজেদের বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। কৃষকরাও জমি ভেঙে যাওয়ার আগে অপরিপক্ব পাট, তিল ও ইরি ধান কেটে ফেলছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ভাঙনের কারণে কৃষক কবির মোল্লার চার একর, ইউসুফ শেখের ১৬৫ শতাংশ, আলী মণ্ডলের ১৩২ শতাংশ এবং রাকিব মোল্লার ৩৩ শতাংশ ফসলি জমি ইতোমধ্যে পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। এছাড়া কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ নিজের পাকা ভিতের বাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব মৃধা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং আরও অনেক বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত ঘোষ বলেন, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এর আগেও তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ২৫ শতাংশ জমির ওপর পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে ১৯৩ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বিআইডব্লিউটিসির ড্রেজিং কার্যক্রম অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ দাবি করেন, খননকাজের পর থেকেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, ড্রেজিংয়ের কারণে ভাঙনের বিষয়টি বাস্তবসম্মতভাবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলে খননকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। জেলা প্রশাসকও দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, প্রতি বর্ষায় এ এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদীতীরের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এর আগে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।