ঈদুল ফিতরে ৭ দিনের ছুটি, সুন্দরবনে বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল ও কড়া নজরদারি

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক । খুলনা
প্রকাশ: ৫৪ minutes ago

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। তবে এই ছুটির মধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।

বনজ সম্পদ রক্ষা ও চোরা শিকারি দমনে সুন্দরবনের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে বন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গোলপাতা আহরণ মৌসুম এবং ঈদের সময় হরিণ শিকারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বনরক্ষীদের টহল কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের আওতায় খুলনা ও সাতক্ষীরা—এই দুই রেঞ্জে রয়েছে ৯টি ফরেস্ট স্টেশন ও ৩০টি টহল ফাঁড়ি, যেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান জানান, ঈদের সময় অনেক বনরক্ষী বাড়িতে চলে যাওয়ায় কিছু এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে অপরাধীরা বনে ঢুকে পড়তে পারে। তাই ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন বিভাগের কেউ নিজ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, এ সময়ে সাতক্ষীরা অংশে গোলপাতা আহরণ চলায় বনজ সম্পদ রক্ষা এবং হরিণসহ বন্য প্রাণী শিকার প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন–সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, টহল কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হলেই গাছচোর, বিষ প্রয়োগকারী মাছ শিকারি ও হরিণ শিকারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সংঘবদ্ধ শিকারিরা হরিণের চলাচলের পথে ফাঁদ পেতে রাখে। পরে ফাঁদে আটকা পড়া হরিণ বনের ভেতরেই জবাই করে মাংস বাজারে বিক্রি করা হয়। ঈদের সময় এই মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়।

উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ছুটির সময় দুর্বৃত্তরা প্রায়ই বনের সম্পদ লুটের সুযোগ নেয়। তাই টহল জোরদার ও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। তবে তিনি মনে করেন, অপরাধ দমনে শুধু টহলই যথেষ্ট নয়—বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করাও জরুরি।

  • ঈদুল ফিতর
  • গোলপাতা
  • পরিবেশ
  • বন বিভাগ
  • বনরক্ষী
  • সরকারি ছুটি
  • হরিণ শিকার