ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ১৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফরিদপুরের দুটি হাসপাতালে এসব শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন রয়েছে।
এর আগে সোমবার (৩০ মার্চ) পর্যন্ত দুই হাসপাতালে মোট ১৪ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু রাখা হয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। জ্বর, ডায়রিয়া, ঠান্ডা-কাশি এবং শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি—এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ডেডিকেটেড হাম কর্নারের মেঝেতেও পাটি বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর শহরের শোভারামপুর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল ইসলাম জানান, তার ১১ মাস বয়সী সন্তানের প্রথমে জ্বর ছিল। স্থানীয় একটি ডিসপেনসারিতে চিকিৎসা নিলেও রাতে জ্বর বেড়ে যায় এবং শরীরে র্যাশ দেখা দিলে পরে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়।
অন্যদিকে, ১৯ মাস বয়সী শিশু মাফজুল ইসলামের মা হাসিবা বেগম বলেন, হাসপাতালে বেড না থাকায় মেঝেতে পাটি পেতে সন্তানের চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, মঙ্গলবার দুই হাসপাতালে মোট ১৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীর আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা হাম আক্রান্ত কিনা।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় হাসপাতালে বিশেষায়িত ইউনিট চালু রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি জোরদার করেছে।